#সিনিয়র_বউ

#লেখকঃ- Tamim

#পর্বঃ- ১৪

,,

,,

,,

,,

তামিম আর তানিয়া বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রুমে চলে আসলো।। রুমে এসেই তানিয়া বললো...

 

তানিয়াঃ তোমাকে যে আমি বুদ্ধিটা দিয়ে হেল্প করলাম এবার তার বদলে আমাকেও কিছু দাও।।

 

তামিমঃ কি চাই আপনার বলেন।।

 

তারপর তানিয়া যা বললো তা শুনে তামিমের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার পালা।। তামিম ভাবতে লাগলো তানিয়া তার কাছে কীভাবে এইটা চাইতে পারলো।। কারণ তানিয়ার কথাটা হলো...

 

তানিয়াঃ প্রথমত আমায় তুমি করে বলতে হবে আর দ্বিতীয়ত বলেই তামিমের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো, আমার একটা বেবি চাই।।

 

তামিমঃ তানিয়ার কথা শুনা মাত্রই তার থেকে ২ হাত দূরে সরে গেলাম।। এখন তার কথায় আমার কি বলা উচিত বুঝে উঠতে পারছি না।।

 

তানিয়াঃ কি হলো চুপ করে আছ কেন কিছু বল, দিবে না আমায় এই ২টা জিনিস.?

 

তামিমঃ আপনাকে তুমি করে বলতে পারবো কিন্তু

 

তানিয়াঃ কিন্তু কি.?

 

তামিমঃ দ্বিতীয়টা আমি পারবো না।।

 

তানিয়াঃ কেন পারবে না শুনি।।

 

তামিমঃ কারণ আমাদের এখনো পড়াশোনা শেষ হয়নি।। আমার কথা ছাড়ুন আপনার কথাই ভাবুন।। আপনারই তো আরও ৬ মাস বাকি রয়েছে পরীক্ষার।। এখন যদি আমরা বেবি নেই তাহলে এতে আপনার পড়াশোনার ক্ষতি হবে আর ছাড়া আপনার শরীরেরও ক্ষতি হতে পারে।।

 

তানিয়াঃ না আমার কোনো ক্ষতি হবে আর না আমার পড়াশোনার।। এইসব নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।। তুমি শুধু বল রাজি কি না।।

 

তামিমঃ না আমি এইসব পারবো না।। আর বেবি নেওয়ার অনেক সময় পরে আছে আমাদের জীবনে।। তাহলে আপনি এখন বেবি নেওয়ার জন্য উথলে পরছেন কেন.?

 

তানিয়াঃ জানি না কিন্তু মাঝেমধ্যে ভয় হয় তোমাকে নিয়ে।। যদি কোনোদিন তোমায় হারিয়ে ফেলি তখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো।।

 

তামিমঃ ওহহ তার মানে এই ব্যাপার।। আমাকে নিয়ে ভয় পাওয়ার কি আছে।।।আমি তো আর আগের মতোই নই, এখন তো আল্লাহর রহমতে বদলে গেছি।।

 

তানিয়াঃ তবুও আমার ভয় হয়।।

 

তামিমঃ ভয় পাবেন না, কথা দিলাম সারাজীবন আমি আপনার পাশে থাকবো (বলেই তানিয়াকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম)।।

 

তানিয়াঃ সত্যি বলছ তো.? আমার মাথায় হাত রেখে বল কখনো আমায় ছেড়ে যাবে না।।

 

তামিমঃ এই যে হাত রাখলাম, কথা দিচ্ছি আপনাকে আমি কখনোই ছেড়ে যাব না (বলেই তানিয়াকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম)।।

 

তানিয়াঃ তাহলে আপনি করে বলছ কেন.? এখন থেকে আমায় তুমি করে বলবা কিন্তু।।

 

তামিমঃ আচ্ছা মহারানী এখন থেকে আপনাকে সরি তোমাকে তুমি করে বলবো, এবার খুশি.?

 

তানিয়াঃ হুম বলেই আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।।

 

দিনটা এইভাবেই কেটে গেল।। প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পরলাম।। তানিয়াও কিছুক্ষণ পর রুমে এসে আমার বুকের মধ্যে শুয়ে পরলো।। আর আমি তানিয়ার কপালে একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরলাম।।

 

পরেরদিন সকালবেলা ঘুম ভাঙলো তানিয়ার ডাকে।। তারপর ঘুম থেকে উঠে অজু করে নামায আদায় করতে মসজিদে চলে গেলাম।। নামায আদায় করে কিছুক্ষণ বাহিরে হাটাহাটি করে বাসায় চলে আসলাম।। বাসায় এসে রুমের মধ্যে বসে বসে ফেসবুকিং করছি এমন সময় তানিয়া এসে রুমে ঢুকলো।।

 

তানিয়াঃ কি করছ.?

 

তামিমঃ না একটু ফেবুতে ঘুরাঘুরি করছি।।

 

তানিয়াঃ ফেবুতে অন্যদিন ঘুরাঘুরি করিও, এখন হাত থেকে মোবাইলটা রাখ।।

 

তামিমঃ কেন.?

 

তানিয়াঃ বলছি আগে বল তুমি কি কুরআন পড়তে পার.?

 

তামিমঃ ইয়ে মানে না আসলে শুদ্ধভাবে পারি না।।

 

তানিয়াঃ বুঝেছি, আচ্ছা এবার উঠে টেবিলে গিয়ে বস।। তোমাকে আজ শুদ্ধভাবে কুরআন পড়া শিখাব।।

 

তামিমঃ অন্যদিন পড়ি না।।

 

তানিয়াঃ কেন আজকে পড়লে কি হবে.? (ভ্রু কুচকে)

 

তামিমঃ না মানে এখন মাথা ব্যাথা করছে তাই আর কি।।

 

তানিয়াঃ মাথা ম্যাথা করছে তাইনা.? এতক্ষণ যে ফেবুতে ছিলে তখন বুঝি মাথা ব্যাথা করছিল না।। এখন কুরআন পড়ার কথা বলতেই মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেল.! আমাকে কি তোমার বোকা মনে হয়.? কিছু বুঝিনা আমি তাইনা.?

 

তামিমঃ আরে না না তুমি যা ভাবছ আসলে তা নয়।।

 

তানিয়াঃ তাহলে কি শুনি.?

 

তামিমঃ আসলে এখন আমার পড়তে ভালো লাগছে না তাই আর কি।।

 

তানিয়াঃ ভালো লাগছে না বললে তো হবে না।। পড়তে তোমায় হবেই যাও উঠে টেবিলে গিয়ে বস।। আর মোবাইলটা আমার কাছে দাও তো (বলেই আমার হাত থেকে ছোঁ মেরে মোবাইলটা নিয়ে নিল)।।

 

তামিমঃ এটা কিন্তু ঠিক না তুমি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার সাথে

 

তানিয়াঃ এই তুমি উঠবে নাকি আমি আম্মুর থেকে ঝালি বেতটা নিয়ে আসবো😡।।

 

তামিমঃ এই না না উঠছি তো, এই যে উঠেছি।।

 

তানিয়াঃ তো এইখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন যাও টেবিলে গিয়ে বস (হালকা ধমকের শুরে)।।

 

তামিমঃ শুরু হয়ে গেল সিনিয়র বউয়ের অত্যাচার (আস্তে আস্তে)।।

 

তানিয়াঃ এই কি বললে.? (রাগী গলায়)

 

তামিমঃ ককই কি বললাম কিছু বলি নাই তো (কেমন মেয়েরে ভাই আস্তে বললেও শুনে ফেলে)।।

 

তানিয়াঃ ওহ কিছু বল নাই তাইনা.? টেবিলে গিয়ে বস আমি একটু পরে আসছি।। আজ পড়া না পারলে বোঝাব মজা (কথাটা বলেই তানিয়া রাগে কটমট করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল)।।

 

তামিমঃ যাহ হঠাৎ সিনিয়র বউটা এতো রেগে গেল কেন.?

 

তারপর তামিম আর দাঁড়িয়ে না থেকে টেবিলে গিয়ে বসে পরলো।। কিছুক্ষণ পর তানিয়া রুমে আসলো।। তানিয়ার এক হাতে কুরআন আর অন্য হাতে ঝালি বেত।। তানিয়ার হাতে ঝালি বেতটা দেখে তামিম মনে মনে বললো, আজ তোর কপালে দুঃখ আছে রে।।

 

তারপর তানিয়া তামিমের কাছে এসে একটা চেয়ার টেনে বসে পরলো আর কুরআন টা তামিমের সামনে রেখলো।।

 

তানিয়াঃ কি হলো বসে আছ কেন পড়।।

 

তামিমঃ কোন জায়গা থেকে পড়বো.?

 

তানিয়াঃ প্রথম থেকে পড়।।

 

তামিমঃ আচ্ছা বলে কুরআনের প্রথম সূরাহ ফাতিহা পড়তে আরম্ভ করলাম।। সাথে সাথে তানিয়া ঝালি বেতটা দিয়ে ঠাস করে আমার পিঠে মেরে দিল।। উ মা গো, এই মারলা কেন.?

 

তানিয়াঃ কুরআন পড়া শুরু করার আগে আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ কিছু পড়তে হয়না তাইনা.?

 

তামিমঃ তো এই কথা মুখে বললেও তো পারতা, এইভাবে কেউ স্বামীকে মারে নাকি.?

 

তানিয়াঃ কীসের স্বামি হে, ওইদিন বলেছিলাম না পড়ানোর সময় তুমি আমার ছাত্র আর আমি তোমার ম্যাডাম।। এখন চুপচাপ পড় একদম কথা বলবা না, কথা বললেই মাইর দিব।।

 

তামিমঃ হু পড়তেছি।।

 

তারপর তামিম আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়ে আবার সূরাহ ফাতিহা দিয়ে কুরআন পড়া শুরু করলো।। কিছুক্ষণ পড়ার তানিয়া তাকে থামতে বললো।। তামিম মনে মনে ভাবলো হয়তো এখন বলবে যাও আর পড়তে হবে না।। কিন্তু তামিমের ভাবনা ভুল বের হলো তানিয়ার কথা শুনে।।

 

তানিয়াঃ তোমার পড়া তো শুদ্ধ হয়না, আগে তোমাকে কায়দা পড়তে হবে নাহলে কুরআন শুদ্ধভাবে পড়তে পারবা না।।

 

তামিমঃ কিহহ এখন আমাকে ছোট বাচ্চাদের মতো কায়দা পড়তে হবে.!

 

তানিয়াঃ হুম দাড়াও আমি কায়দা নিয়ে আসছি বলেই তানিয়া বসা থেকে উঠে আলমারির ড্রয়ার থেকে একটা কায়দা বের করে এনে তামিমের সামনে রাখলো।।

 

তানিয়াঃ এই যে আলিফ, বা, তা, ছা এইগুলো প্রথম পড়।। এইগুলো ভালো ভাবে পড়ে এগুলোর সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারলে কুরআনও সঠিকভাবে পড়তে পারবা।।

 

তামিমঃ আচ্ছা পড়তেছি, কিন্তু পড়া শেষ হলে কিন্তু আমাকে একটা গিফট দিতে হবে।।

 

তানিয়াঃ কি গিফট.?

 

তামিমঃ সেটা পড়া শেষ হলে বলবো, আগে কথা দাও দিবা।।

 

তানিয়াঃ আচ্ছা দিব এবার পড়।। তবে পড়া ভালো ভাবে শিখতে না পারলে কিন্তু মাইর আছে মনে রেখ।।

 

তামিমঃ আচ্ছা বলে পড়তে শুরু করলাম।।

 

৫ মিনিট পড়েই তানিয়াকে বললাম পড়া শেষ।। তানিয়া আমার কথা শুনে এক এক করে হরফ গুলো উচ্চারণ করতে বললো।। আমিও সঠিকভাবে হরফ গুলো উচ্চারণ করলাম (কি ভাবছেন ৫ মিনিটেই এতোকিছু কীভাবে সম্ভব.? আসলে ছোটবেলায় কয়েকমাস মসজিদের মক্তবে গিয়ে আরবি পড়া পড়েছিলাম।। মক্তবে পড়া না পারলে হুজুরেরা অনেক মারতো তাই রাতে বাসায় এসে আবার কিছুক্ষণ আরবি পড়তাম।। ওই থেকেই আরবি পড়া শিখেছি।। কিন্তু এখন অনেক বছর ধরে আর পড়তে বসিনা, তবে পড়া মনে আছে।। আর তানিয়ার সামনে ইচ্ছা করেই পড়া না পারার মিথ্যা অভিনয় করেছি ওই গিফটটা পাওয়ার জন্য😐)।।

 

তানিয়া তো অবাক, তামিমের পড়া শুনে।। এই ৫ মিনিটে তামিম কীভাবে সব হরফ গুলো সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারলো.!

 

তামিমঃ পড়া তো সঠিকভাবে উচ্চারণ করলাম এবার আমার গিফট।।

 

তানিয়াঃ গিফট.! কি গিফট চাই তোমার বল.?

 

তামিমঃ ঠোঁট ফেটে চিন চিন করছে হায়, আমার এই ঠোঁট একবার তোমার এই মিষ্টি ঠোঁটের ছোঁয়া পেতে চায়।।

 

তানিয়াঃ এ্যা 😦

.

.

.

.

.

Loading.......

 

গতকাল শুধু বলেছিলাম আজকের পর্বতে আপনাদের ভালো সাপোর্ট না পেলে গল্প ২-৩ পর্বের মধ্যে শেষ করে দিব।। ব্যস এতেই কাজ হয়ে গেল, যারা যারা এতোদিন Nc, Next কমেন্ট করে এসেছে আর যারা গল্প পড়ে কোনো কমেন্টই করেনি তারাও গতকালের পর্বতে ভালো ভালো কমেন্ট করেছে।। এতে বুঝা যায় যেদিন আমি আপনাদের অনেক রিকুয়েষ্ট করবো ভালো কমেন্ট করার জন্য সেদিনই আপনারা ভালো কমেন্ট করবেন এ ছাড়া আপনারা কমেন্ট করবেন না।।

 

লেখকের কষ্টের কথা শুনে আপনাদের তার প্রতি দরদ হবে আর আপনারা কমেন্ট করবেন।। এতো হাজার শব্দের গল্প লিখি আপনাদের জন্য আর আপনারা ১-২ লাইনের কমেন্টও করতে পারেন না.! কমেন্ট করলে বুঝি হাত ব্যাথা করে.? সে যাইহোক আমি আর এ বিষয় নিয়ে কথা বাড়াব না।। শুধু একটা কথাই বলবো গতকালের পর্বতে আপনাদের যেমন সাপোর্ট পেয়েছি ঠিক তেমন সাপোর্ট যেন প্রত্যেক পর্বতেই পাই।। যদি এক পর্বতে কম সাপোর্ট মিলে তাহলে এর পরের পর্বতেই গল্পের সমাপ্তি ঘটবে।। এখন গল্পটা অসুন্দর, অগোছালো হলেও আমার কিছু করার থাকবে না।।

 

~~ সবাই নিয়মিত নামায কায়েম করবেন আর অন্যদের নামাযের লাভ জানিয়ে দাওয়াত দিবেন প্লিজ ~~